কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের কঠোর অভিযানে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটকরা।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর পর কলকাতা প্রশাসন নিউমার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। অভিযানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনের অভিযোগ, অনেক হোটেলেই ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশের অনুমতি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ফায়ার অ্যালার্ম এবং জরুরি বহির্গমন সিঁড়ির মতো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এসব ঘাটতি থাকায় একের পর এক প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে প্রশাসনের এই অভিযানের প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। অভিযানের সময় উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও কয়েকটি হোটেল পরিদর্শন করে বন্ধের নির্দেশ দেন।
এদিকে হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নিউমার্কেট এলাকায় থাকা বাংলাদেশি পর্যটকরা। বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার পর্যটক নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থান করছেন।
হঠাৎ হোটেল ছাড়ার নির্দেশ পাওয়ায় কেউ বিকল্প আবাসনের খোঁজ করছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে কলকাতা সরকার শহরের হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও সিইএসসির সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি শহরের ৩ হাজার ৫০০টির বেশি হোটেলের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করবে।
তবে নিউমার্কেট এলাকায় অভিযানের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি। এতে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশি পর্যটকদের ঘিরে গড়ে ওঠা নিউমার্কেটের হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও কেনাকাটার ব্যবসায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কদমতলী, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৮৮
জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৬৯৯
















