Tuesday , 11 August 2026 | [bangla_date]
  1. অর্থ-বাণিজ্য
  2. আইন ও অপরাধ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. কেরাণীগঞ্জ
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম
  10. প্রযুক্তি
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষা
  14. সাক্ষাৎকার
  15. সারাদেশ

শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদীর চর দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব: প্রশাসনের নীরব ভূমিকা

​মোঃ জয়নাল হোসেন, সাতক্ষীরা

​সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১১নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়কুমারপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে হুমকির মুখে ফেলে চর দখল, ভরাট এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালী মহল প্রকাশ্যেই এই ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূমি অফিসের নাকের ডগায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে পদ্মপুকুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি একাধিকবার নিষেধ করলেও দখলদাররা তা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

​ভূমি অফিস কর্মকর্তা আরও জানান, দখলদারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এবং তারা নাকি পাউবো থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছেন। যেহেতু এটি পাউবো-র জায়গা, তাই ভূমি অফিস সরাসরি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে জানান তিনি।

​এ বিষয়ে শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন প্রশাসনিকভাবে শ্যামনগর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও ওই অঞ্চলের দেখভালের দায়িত্ব আশাশুনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশনের অধীনে। পরবর্তীতে আশাশুনি পাউবো অফিসে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দখল প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন গড়কুমারপুর বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং জামায়াত নেতা আব্দুল গফফারসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ‘সময়ের দীপ্তি’ নিউজপোর্টালে সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্যে আব্দুল গফফারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে তারা অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেছেন।

​তবে কাগজপত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এবং সাংবাদিকরা তা দেখতে চাইলে আব্দুল গফফার তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। উল্টো তিনি দাবি করেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রহমান এবং পদ্মপুকুর ইউনিয়ন জামায়াতের বিভিন্ন নেতাকর্মীর নির্দেশ ও আশ্বাসে তারা নদীর চরে এই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

​এদিকে শ্যামনগর উপজেলা পাউবো অফিসে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, নদীর চরে কোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্য তারা কাউকে কোনো কাগজপত্র বা অনুমতি দেননি।

​স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, আব্দুল গফফারসহ অন্যরা দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। কেউ এই অবৈধ দখলের প্রতিবাদ করতে গেলে তাদেরকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়।

​শুধু আব্দুল গফফার একা নন, গড়কুমারপুর বাজারসংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর তীরে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও শুরু হয়েছে কে কার আগে জায়গা দখল করতে পারে সেই নীরব প্রতিযোগিতা। কেউ নদীর বাঁধে, আবার কেউ নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে দেদারছে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা তুলে চলেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দপ্তরগুলোর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এই দখলদাররা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

​খোলপেটুয়া নদীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক নদের চর এভাবে গ্রাস করায় নদীটির স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ও পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীদের মতে, এখনই যদি এই অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধ করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে পদ্মপুকুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকা মারাত্মক জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

​জরুরি ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ হস্তক্ষেপে খোলপেটুয়া নদী রক্ষায় এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

ট্রাডিশনাল স্বাদ প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স
অরিজিনাল রেসিপিতে তৈরী অথেন্টিক কাচ্চি। পরিবার, বন্ধু ও বিশেষ আয়োজনের জন্য সেরা পছন্দ।
১ম শাখা
কদমতলী, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৮৮
২য় শাখা
জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৬৯৯
Designed by targetit.com.bd

সর্বশেষ - বিনোদন