ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া কিংবা অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। রোববার (৯ আগস্ট) ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, কারাগারে বন্দির সঙ্গে দ্রুত সাক্ষাৎ, প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া কিংবা অসুস্থ বন্দিকে হাসপাতালে ভর্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বজনদের নিজস্ব বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। তবে টাকা লেনদেনের পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে প্রতারিত হয়েছেন একাধিক পরিবার।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ
কোহিনূর বেগম (নারায়ণগঞ্জ): ছেলে শাহাজামান কারাগারে অসুস্থ—এমন দাবি করে সালমান নামের এক কারারক্ষী তার কাছ থেকে বিকাশে ৫,০০০ টাকা নেন। টাকা দেওয়ার পরও ছেলের দেখা না পেয়ে এবং আবার টাকা চাওয়ায় তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
সাদাত (টাঙ্গাইল): ভাই সফিকুল ইসলাম সামাদ গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর খরচের কথা বলে টাকা চাওয়া হয়। পরে অনুসন্ধান করে কারাগার বা হাসপাতালে ভাইয়ের কোনো সত্যতা পাননি তিনি।
নিলয় (দোহার): ভাই অসুস্থ বলে প্রথমে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য সুবিধার কথা বলে কয়েক দফায় তার কাছ থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা নেওয়া হয়।
অন্যান্য স্বজনরা: বন্দিদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ভয় পেয়ে অনেকেই মুখ খুলছেন না। সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়ার পর আবারও একই ধরনের অবৈধ অর্থ লেনদেন শুরু হয় বলে জানান তারা।
কারাগারের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন কারারক্ষী ও তাদের স্বজনদের মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত মোটা অঙ্কের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ ও জেলার মাসুদ হাসান জুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ডেপুটি জেলার মো. আশাদুল ইসলাম জানান, কারাগারে কোনো প্রকার অনিয়ম বা অবৈধ লেনদেনের সুযোগ নেই; সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কদমতলী, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৮৮
জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৬৯৯


















