আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস—বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে, সূচনা হয় মুক্তিযুদ্ধের।
হাজার বছরের শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস পেরিয়ে ১৭৫৭ সালের পলাশীর পর থেকে এ অঞ্চলের মানুষ প্রায় দুই শতাব্দী ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও পূর্ব বাংলার মানুষের ভাগ্যে নেমে আসে নতুন বৈষম্য—পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন।
ভাষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বঞ্চিত পূর্ব বাংলার মানুষ ধীরে ধীরে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬ দফা, গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন—সব আন্দোলনই একসময় স্বাধীনতার দাবিতে রূপ নেয়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর হামলা চালায়। সেই ভয়াল রাতের পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে, আর তাতেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে। অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়।
৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
আজ সেই গৌরবময় অর্জনের ৫৬তম বছর। যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা দিবস—একটি জাতির আত্মপরিচয়, সাহস ও স্বাধীনতার প্রতীক।
কদমতলী, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৮৮
জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৬৯৯


















