চরম লোডশেডিং ও ভূতুড়ে বিলে দিশেহারা কেরানীগঞ্জবাসী
আগানগর, হাসনাবাদ ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের জনজীবন আজ এক প্রকার বিপর্যস্ত। একদিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা মিলছে বিদ্যুতের দেখা, অন্যদিকে ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া এবং এই লুকোচুরি খেলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী, রোগী ও শ্রমজীবী মানুষ। আজ ১১ই আগস্ট ২০২৬ তারিখেও কেরানীগঞ্জে দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে গেছে এবং কখন বিদ্যুৎ আসবে তার কোনো ঠিকঠিকানা বা নিশ্চয়তা না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে, নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী রাত বারোটায় এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে রাত দুইটা-তিনটা বাজলেও অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এমনকি অনেক দিন ফজরের নামাজের পরেও বিদ্যুৎ উধাও থাকে, যা পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
তার সাথে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যোগ হয়েছে অস্বাভাবিক বা ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল। যেখানে বিদ্যুৎই পাওয়া যায় না ঠিকমতো, সেখানে মাসের শেষে হাতে আসা বিল দেখে চোখ কপালে উঠছে গ্রাহকদের। প্রয়োজনে আলো জ্বালানো বা পাখা চালানোর উপায় না থাকলেও আগের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
তরিকুল্লাহ রোডের এক দোকানদার সোহাগ হোসেন বলেন, তাঁর দোকানে স্বাভাবিক ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকার মতো প্রতি মাসে বিল আসে। সম্প্রতি গত মাসে ৮৭০০ টাকার একটি ভুতুড়ে বিল তাঁকে দেওয়া হয়েছে। হাসনাবাদ ও বসুন্ধরা এলাকার বাসিন্দা এবং আশপাশের গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষও একই অভিযোগ করেন; তাঁদের দাবি, দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে অথচ মাস শেষে অতীতের থেকে তিন থেকে চার গুণ বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে। ভুক্তভোগীরা সবাই এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ চান।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসীর আকুল আবেদন, অবিলম্বে আগানগর তরিকুল্লাহ রোড, হাসনাবাদ, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং আশপাশের গ্রামগঞ্জে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করুন এবং অযৌক্তিক ও ভূতুড়ে বিলের সঠিক তদন্ত করে সাধারণ গ্রাহকদের এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিন।
কদমতলী, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৮৮
জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৬৯৯


















