২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধস থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম (৪০)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—বছর পেরিয়ে সেই লড়াকু নারীর জীবন থেমে গেল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ঢাকায় ফেরার পথে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় নাসিমাসহ একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নাসিমাসহ তিনজন নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাতে তাদের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে শোকের মাঝেই আরও এক বিপত্তি ঘটে। নিহতদের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার শিকার হয়। যদিও এতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নাসিমার জীবন ছিল এক অনবরত সংগ্রামের গল্প। রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপে টানা তিন দিন আটকে থেকেও তিনি বেঁচে ফিরেছিলেন। পরে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে আবার ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনের শেষ পথচলা।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
কদমতলী, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৮৮
জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৬৯৯

















