আজ ২ এপ্রিল, কেরানীগঞ্জের মানুষের জন্য এক শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী কেরানীগঞ্জে চালায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ, যা ইতিহাসে এক ভয়াল গণহত্যা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
২৫ মার্চের কালরাতের পর ঢাকার আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী কেরানীগঞ্জে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। কিন্তু সেই আশ্রয়স্থলই পরিণত হয় মৃত্যুকূপে। ২ এপ্রিল ভোরে পাকবাহিনী অতর্কিত হামলা চালিয়ে নিরীহ, নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং বেয়নেট দিয়ে হত্যা করে। স্থানীয়দের মতে, এদিন প্রায় ৫ হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ শহীদ হন।
জিনজিরা, মন্যু ব্যাপারীর ঢাল, নজরগঞ্জ, গোলজারবাগ, মান্দাইলসহ বিভিন্ন এলাকা লাশের স্তূপে পরিণত হয়। অনেক জায়গায় গণকবর খুঁড়ে একসাথে ১০-১২ জন করে দাফন করতে হয়েছিল। নজরগঞ্জের একটি কবরেই অজ্ঞাত ৫৪ জনকে দাফনের তথ্য পাওয়া যায়।
স্বাধীনতার এত বছর পরও এই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হয়নি—এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবারগুলো। তারা এ দিবসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।
দিবসটি উপলক্ষে কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম প্রহরে স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়া আলোচনা সভা ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ গণহত্যা শুধু একটি দিনের স্মৃতি নয়, এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বেদনাময় অধ্যায়—যা চিরকাল জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে থাকবে।
কদমতলী, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৮৮
জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ
📞 ০১৯৮৩৬০০৬৯৯

















